
মোগল সম্রাট আকবরের দরবারে নবরত্নদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বীরবল—যিনি তার তীক্ষ্ণ উপস্থিত বুদ্ধি এবং রসিকতার জন্য আজও কিংবদন্তি হয়ে আছেন ।
একদিন বীরবল সম্রাটকে একটি অদ্ভুত প্রশ্ন করলেন—‘মহারাজ, যদি এমন হয় যে আপনার সব খাবার বন্ধ করে দিই, তখন আপনি কী করবেন?’
সম্রাট কিছুক্ষণ ভেবে উত্তর দিলেন, ‘আমার অর্ধেক রাজত্ব তোমাকে লিখে দেব।’
বীরবল তখন আরেকটি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন—‘আর যদি আপনার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রয়োজন (টয়লেট) জোর করে বন্ধ করে দিই?’
এবার সম্রাট বিন্দুমাত্র দেরি না করে বললেন, ‘তাহলে পুরো রাজত্বই লিখে দিতে রাজি আছি!’
আজকের বৈশ্বিক রাজনীতিতে ঠিক এমনই এক বেকায়দা অবস্থায় পড়ে গেছেন বর্তমান বিশ্বের অবিসংবাদিত সম্রাট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প! সম্রাট আকবর দ্বিতীয় প্রশ্নে মানসিকভাবে যে চাপে পড়েছিলেন, ইরানের দেওয়া সর্বশেষ দশটি শর্ত তার জন্য সমপরিমাণ মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ অন্য অপশন তার হাতে এখন খুব বেশি নেই! Religion is the last refuge of a Scoundrel. এই বাক্যটির সত্যতাও তিনি প্রমাণ করে ছেড়েছেন এবং এই অস্ত্রটিও তিনি ব্যবহার করে ফেলেছেন! কিন্তু এখানেও খুব সুবিধা করতে পারেননি! তিনি এটিকে ধর্মযুদ্ধের অবয়ব দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ঈশ্বর তার সঙ্গে আছেন। মুসলিম বিশ্বের দরবারি আলেমের মতো কিছু দরবারি পাদরি ও নান ট্রাম্পকে ছুঁয়ে দোয়া করে এলেও খ্রিষ্টান জগতের মূল অথরিটি ভ্যাটিকানের পোপ এই কথার প্রতিবাদ করেছেন। অন্য বিকল্প পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ—সেটাও সম্ভব নয়। সেটা করলে শুধু ইরানিয়ান সভ্যতাই নহে, পুরো মানবসভ্যতাই প্রস্তরযুগে ফিরে যাবে!
ট্রাম্প যাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানিয়েছেন, তিনি আরো এক কাঠি ওপরে। Pete Hegseth নামক চরম ইসলামোফোবিক লোকটি বলেছেন, সুন্নি বা শিয়া নয়, ইসলামই শত্রু । তার এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ইরান যুদ্ধকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র ও তাৎক্ষণিক। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান মিত্র দেশগুলো থেকে শুরু করে তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত কড়া প্রতিবাদ এসেছে; তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মুসলিম সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে পদত্যাগ দাবি করেছে আর ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও অস্বস্তি স্পষ্ট।
সারা পৃথিবী এ সংকটে ছটফট করলেও সম্ভবত এই লোকটির বেকায়দা অবস্থা উপভোগ করছে। আল্লাহতায়ালা তার অপার মহিমায় মাঝেমধ্যে বান্দাদের জন্য এ ধরনের নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেন!
কিছুদিন আগে আমাদের জন্যও এ রকম একটা বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন মহান আল্লাহ! একজন অত্যন্ত ঔদ্ধত্য সহকারে বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বেটি পালায় না!’ আল্লাহর কী অপার লীলাখেলা! সেই তিনি দুদিন পরে হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়েছিলেন! ট্রাম্পকে কেন যেন আমার কাছে মেলায় হারিয়ে যাওয়া ‘শেখ হাসিনার ভাই’ কিংবা ‘বঙ্গবন্ধুর ব্যাটা’ বলে মনে হয়। প্রতিপক্ষের পানে ঘৃণা প্রকাশের ধরন, বাগাড়ম্বর, হুমকি—সবশেষে আলগোছে পালিয়ে আসা এবং পালানোর পরেও আবার সেই আগের বাগাড়ম্বর—সবকিছুতেই অপূর্ব মিল!
আমাদের সর্বোচ্চ আদালত যে রকমভাবে ইনাকে রং-হেডেড হিসেবে রায় দিয়েছিল, একইভাবে সিআইএর প্রাক্তন পরিচালক জন ব্রেনান হাসিনার এই ভাইকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন (Unhinged) হিসেবে অভিহিত করেছেন!
একটু খেয়াল করলে দেখবেন Unhinged শব্দটির পারফেক্ট অনুবাদ হলো ‘ইস্ক্রু ঢিলা’। এই ইস্ক্রু ঢিলা লোকটি কখনো বলেন কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একান্নতম অঙ্গরাজ্য বানাবেন, কখনো আইসল্যান্ড দখলের স্বপ্ন দেখেন। আবার এমন দাবিও করেন যে ভেনেজুয়েলার জনগণ নাকি তাকে তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায়! এমনকি ইরানের জনগণও তাদের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাকেই বেশি পছন্দ করবে—এই ধারণাটিও তিনি অকপটে প্রকাশ করেন। আর সেই ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর জিগির দোস্ত হলো মোদি। ইসরাইল গিয়ে মোদি বলে এসেছেন—ইন্ডিয়া তাদের মাদারল্যান্ড এবং ইসরাইল তাদের ফাদারল্যান্ড। আর সেই ইন্ডিয়াকে আমরা গণ্য করেছিলাম হাজবেন্ড-ল্যান্ড। আগেকার সেই হাজবেন্ড-ল্যান্ডের আবেশ থেকে আমরা কতটুকু বেরিয়ে এসেছি—সেটিও ঠিকভাবে মালুম করতে পারছি না!
আমেরিকার ডিপ-স্টেইট শুধু শুধু কোনো কাজ করে না। মুসলিম উম্মাহকে একটু ‘টাইট’ দেওয়ার জন্যই সম্ভবত এই অর্ধ উন্মাদকে ক্ষমতার মঞ্চে আনা হয়েছিল। কিন্তু মানুষ করে পরিকল্পনা আর স্রষ্টা করেন মহাপরিকল্পনা! সম্ভবত সেই মহাপরিকল্পনাই এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বা সামনে আরো দেখতে পাব!
সর্বোচ্চ নেতাসহ বিপুলসংখ্যক টপ সারির নেতা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জোটের হিসাব ছিল—ইরানি রেজিমের বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা । শোক, প্রতিরোধ ও ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তারা জানতেন, যেকোনো মুহূর্তে বোমার আঘাতে জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে—তবু তারা পিছু হটেননি। মূলত এদিনই যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়ে পড়ে।
এদিকে চায়না, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও পরোক্ষ সহায়তা বজায় রেখেছে, যা আমেরিকা-ইসরাইল জুটিকে আরো বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে!
বিশ্বমঞ্চে শক্তির ভালগার প্রদর্শনী : নীরব বিশ্ববিবেক
মাহাথির মুহাম্মদ বলেছিলেন, ‘সারা পৃথিবীতে ১০ হাজারের ওপরে পারমাণবিক বোমা রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমাদের টেনশন নেই। সবার টেনশন ইরানের হাতে দু-একটি আছে কি না।’ এ ক্ষেত্রে বিশ্ব পুলিশিংয়ের ভূমিকায় নেমেছে সেই যুক্তরাষ্ট্র, যার নিজের হাতে রয়েছে ৫ হাজার ২০০! তার সহযোগী ইসরাইলের হাতে আছে অঘোষিত ৯০টির মতো। এটি রাখা তাদের জন্য অপরাধ নয়—অপরাধ শুধু ইরানের বেলায়। মাহাথির মুহাম্মদের উত্থাপিত এই প্রশ্ন এখন অনুরণিত হচ্ছে প্রায় আট বিলিয়ন হোমো সেপিয়ানের অন্তরে!
আরো ট্রাবলিং ট্রুথটি হলো, এই গ্লোবাল পুলিশটিই একমাত্র পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, যে আজ ‘দায়িত্বশীল ব্যবহারের’ নৈতিক পাঠ দিচ্ছে।
আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া—এই দেশগুলো আমেরিকার গণতন্ত্র রপ্তানির স্বাদ আস্বাদন করছে। ইরানি জনগণ তাই সেই স্বাদ আর গ্রহণ করতে চায় না। তাই বিশ্বমোড়লের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আজ ইরানের পক্ষে বিশ্বজনতা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে!
হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় কৌশলগত অস্ত্র হয়ে পড়েছে। এটার ব্যবহার সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি!
আমেরিকার ডিপ-স্টেইট শুধু শুধু কোনো কাজ করে না। মুসলিম উম্মাহকে একটু ‘টাইট’ দেওয়ার জন্যই সম্ভবত এই অর্ধ উন্মাদকে ক্ষমতার মঞ্চে আনা হয়েছিল। কিন্তু মানুষ করে পরিকল্পনা আর স্রষ্টা করেন মহাপরিকল্পনা! সম্ভবত সেই মহাপরিকল্পনাই এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বা সামনে আরো দেখতে পাব!
সর্বোচ্চ নেতাসহ বিপুলসংখ্যক টপ সারির নেতা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জোটের হিসাব ছিল—ইরানি রেজিমের বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা । শোক, প্রতিরোধ ও ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তারা জানতেন, যেকোনো মুহূর্তে বোমার আঘাতে জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে—তবু তারা পিছু হটেননি। মূলত এদিনই যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়ে পড়ে।
এদিকে চায়না, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও পরোক্ষ সহায়তা বজায় রেখেছে, যা আমেরিকা-ইসরাইল জুটিকে আরো বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে!
বিশ্বমঞ্চে শক্তির ভালগার প্রদর্শনী : নীরব বিশ্ববিবেক
মাহাথির মুহাম্মদ বলেছিলেন, ‘সারা পৃথিবীতে ১০ হাজারের ওপরে পারমাণবিক বোমা রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমাদের টেনশন নেই। সবার টেনশন ইরানের হাতে দু-একটি আছে কি না।’ এ ক্ষেত্রে বিশ্ব পুলিশিংয়ের ভূমিকায় নেমেছে সেই যুক্তরাষ্ট্র, যার নিজের হাতে রয়েছে ৫ হাজার ২০০! তার সহযোগী ইসরাইলের হাতে আছে অঘোষিত ৯০টির মতো। এটি রাখা তাদের জন্য অপরাধ নয়—অপরাধ শুধু ইরানের বেলায়। মাহাথির মুহাম্মদের উত্থাপিত এই প্রশ্ন এখন অনুরণিত হচ্ছে প্রায় আট বিলিয়ন হোমো সেপিয়ানের অন্তরে!
আরো ট্রাবলিং ট্রুথটি হলো, এই গ্লোবাল পুলিশটিই একমাত্র পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, যে আজ ‘দায়িত্বশীল ব্যবহারের’ নৈতিক পাঠ দিচ্ছে।
আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া—এই দেশগুলো আমেরিকার গণতন্ত্র রপ্তানির স্বাদ আস্বাদন করছে। ইরানি জনগণ তাই সেই স্বাদ আর গ্রহণ করতে চায় না। তাই বিশ্বমোড়লের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আজ ইরানের পক্ষে বিশ্বজনতা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে!
হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় কৌশলগত অস্ত্র হয়ে পড়েছে। এটার ব্যবহার সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি!
ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালি শুধু কৌশলগত নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন। যদি এই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতছাড়া হয়, তবে তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিকভাবেও ইরানকে বিপর্যস্ত করবে।
একই সঙ্গে চায়নার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং হরমুজ প্রণালি সেই সরবরাহের প্রধান রুট। ফলে এই প্রণালিতে অস্থিরতা বা ইরানের দুর্বলতা সরাসরি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
এই বাস্তবতায় চীন কখনোই ইরানকে সম্পূর্ণ একা ছেড়ে দেবে না। তবে এর মানে এই নয় যে, চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। বরং কৌশলগতভাবে আড়াল থেকে সহযোগিতা—প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, অর্থনৈতিক সহায়তা—এ পথেই এগোনোই তাদের জন্য বেশি যুক্তিযুক্ত।
একই ধরনের অবস্থান দেখা যেতে পারে রাশিয়ার ক্ষেত্রেও। রাশিয়া ইতোমধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে একাধিক সংঘাতে জড়িত। ফলে সরাসরি নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি তারা নেবে না। কিন্তু পরোক্ষভাবে ইরানকে সহায়তা করার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে চাইবে।
এভাবে একটি ‘নীরব সমন্বয়’ তৈরি হচ্ছে—চীন ও রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধ না করেও ইরানের পক্ষে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বলয়ের জন্ম দিচ্ছে—চায়না-ইরান-পাকিস্তান। এই বলয় শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও নিরাপত্তা দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে তুরস্ক, যার সঙ্গে পাকিস্তান ও ইরানের ঐতিহাসিক সহযোগিতা রয়েছে। এই সমীকরণ নতুন নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি আরো সংহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে এক ধরনের বিপরীত বলয়ের অংশ হয়ে উঠছে। ফলে এশিয়ার রাজনীতি ক্রমেই দুই মেরুতে বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এই সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে মধ্যস্থতা বা যোগাযোগের একটি সম্ভাব্য সেতু হিসেবে পাকিস্তান নিজেকে উপস্থাপন করতে পারছে।
এর ফলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের গুরুত্ব নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের ওপরেও পড়বে বলে মনে হচ্ছে! দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে, যা গত দেড় দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় আরো তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক এবং অর্থনৈতিক সংঘাত এবং চীন-রাশিয়ার নীরব কৌশল—সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক নতুন শক্তির সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে।
এই বাস্তবতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীপে সর্বশেষ দুটি কথা
শফি ভাই (শফিক রেহমান) যখন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন জাতিসংঘের জেনারেল সেক্রেটারির কাছে লেখা ম্যাডামের চিঠি প্রথমে আমার কাছে পাঠাতেন! আমি তা আবার ড. খলিল ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দিতাম!। খলিল ভাই তখন জাতিসংঘে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদে চাকরিরত ছিলেন এবং বিএনপি তথা দেশের জন্য এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আঞ্জাম দিয়েছিলেন! কাজেই এই খলিল ভাইয়ের পদত্যাগ চেয়ে বিএনপির সালাহউদ্দিন ভাই যখন বিবৃতি দেওয়া শুরু করলেন, তখন বিএনপির এই সমন্বয়হীনতা দেখে খুবই হতাশ হয়েছিলাম।
সেই যোগাযোগের সুবাদে আমার লেখালেখি নিয়েও তিনি অনেক পরামর্শ দিতেন। একবার শুধু আমার সঙ্গে দেখা করার জন্যই আমেরিকা থেকে দেশে যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে যাত্রাবিরতি করেছিলেন। তখন জিও-পলিটিকস নিয়ে অনেক কথা হয়েছে! বাংলাদেশের কী কী করা উচিত, তা তিনি বলতেন। এখন সেসব বাস্তবায়ন করার সুযোগ আল্লাহতায়ালা তাকে দিয়েছেন! আগের সেই পরিচয় এবং জানা-শোনার দাবিতে বলছি, ‘প্রিয় খলিল ভাই, যার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখেন না কেন, দয়া করে অভাগা দেশটির স্বার্থই সবার ওপরে রাখবেন বলে আমি এখনো বিশ্বাস রাখি । আমাকে বলা আপনার সেই প্রজ্ঞাময় কৌশল অনুযায়ী উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন! পাকিস্তান যেভাবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত এলাই এবং চায়নার অল-ওয়েদার ফ্রেন্ড—সেটি হতে আমাদের অসুবিধা বা পিছুটান কোথায়? আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে (শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথে) যাতে এই কাজটি আপনারা করতে পারেন—দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই দোয়াটি করছি! আমিন!
তখন ইন্ডিয়া আমাদের সঙ্গে নিজের স্বার্থেই ‘পিপল টু পিপল’ সম্পর্ক করতে এগিয়ে আসবে!
সম্পাদক: অধ্যাপক জিএম জাকারিয়া খান সায়েম, সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি :মিসেস সায়েমা সিয়াম রুপম, নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল্লাহ হাসনাইন জিশান, সম্পাদনা সহযোগীঃ আব্দুল্লাহ তাহসিন জিহান, তাজকিয়া তাবাসসুম জুহি, আব্দুল্লাহ তাসনিম জামিল, তাহসিনা জান্নাত জাইফা