নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। মঞ্চ থেকে টিভি ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও খ্যাতি কুড়িয়েছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্রেই আঁকাআঁকি নিয়ে সময় কাটে তার। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন এ অভিনেত্রী। ফিরেই চিত্রাঙ্গন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি রুম্মান রশীদ খানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সঞ্চালক জানতে চান, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার প্রস্তাব আপনার কাছে গিয়েছিল। সেই সময় বলিউড থেকেও আপনি প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কেন সেই প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন?- জবাবে বিপাশা হায়াত বলেন, বলিউডের যে প্রস্তাব এসেছিল, সেটি এত আগে না, আরও পরে। বলিউডের সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছিল। সিনেমাটির নাম মনে করতে পারছি না। তবে যে লোক ফোন করেছিলেন, তার ফোন নম্বর এখনো আমার ফোনে সেভ করা আছে। তখন আমার মনে হয়েছিল, আমার দেশের মানুষ আমাকে যেভাবে ভালোবাসেন, সেই দর্শক যদি দেখেন ওখানে যাওয়ার জন্য যেনতেন একটি চরিত্রে অভিনয় করছি, আসলে আমি তা করতে পারি না। তিনি বলেন, পাবলিক ফিগার হয়ে ওঠার অনেক বড় একটি দায়িত্ব রয়েছে। কাজের মাধ্যমে এই দায়িত্ববোধ বহন করা উচিত। মানুষের ভালোবাসা কিন্তু ভীষণ ডিভাইন (স্বর্গীয়)। এই পৃথিবীতে যত যুদ্ধবিগ্রহ, কোন্দল, মারামারি, কাটাকাটি- সবই ভালোবাসার অভাবে। মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান। এ জায়গা থেকে আমার মনে হয়নি, বাংলাদেশের চাইতে ওখানে গিয়ে ভালো কিছু করতে পারবো। অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি অভিনয়কে ভালোবাসি। নাটক আমার কাছে পরিপূর্ণ এক শিল্প। সেখানে বাণিজ্য অবশ্যই থাকবে। কিন্তু একটা সময় মনে হয়েছে, বাণিজ্যই আসল, শিল্প নয়। অনেক বেশি কম্প্রোমাইজ করছে সবাই। তখন সিরিয়াসলি ছবি আঁকতে শুরু করি। আর্ট প্র্যাকটিস শতভাগ সময় ডিমান্ড করে। এভাবেই দূরে সরে গেছি।

