চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি: বিকল্প হিসেবে ‘পুরাতন থানা ভবন’ ব্যবহারের প্রস্তাব
মোঃ ইসমাইল হোসেন : জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু না হওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নতুন উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, জনগণের ভোগান্তি কমাতে চন্দ্রগঞ্জ থানার পরিত্যক্ত পুরাতন ভবনটিতে অস্থায়ীভাবে উপজেলা কার্যালয় স্থাপনের জোরালো দাবি উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, এই পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে কয়েক লাখ মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি দূর হবে।
আন্দোলনের সুফল মিলছে না সেবার অভাবে
দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল এই নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা। তবে ঘোষণার পর প্রশাসনিক স্থবিরতায় সাধারণ মানুষকে এখনো ভূমি, সমাজসেবা, কৃষি ও শিক্ষা সংক্রান্ত সেবার জন্য জেলা সদরে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে চরমভাবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার মর্যাদা পেলেও পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক সেবা না পাওয়ায় তারা এখনো ইউনিয়ন পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে চন্দ্রগঞ্জ থানা অনুমোদনের পর চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ডাক বাংলোর একটি ভবনে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ২০১৯ সালে আধুনিক নতুন ভবন নির্মিত হলে থানার যাবতীয় কার্যক্রম সেখানে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে পুরাতন ভবনটি খালি এবং ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে।
সচেতন মহলের যুক্তি ও প্রস্তাবনা:
তাৎক্ষণিক সেবা: পুরাতন ভবনটি সংস্কার করে দ্রুত ইউএনও কার্যালয়সহ জরুরি দপ্তরগুলো চালু করা সম্ভব।
অর্থ সাশ্রয়: নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণে শতকোটি টাকা ও কয়েক বছর সময়ের প্রয়োজন। বিদ্যমান সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করলে সরকারের বিশাল অংকের অর্থ সাশ্রয় হবে।
ভৌগোলিক সুবিধা: চন্দ্রগঞ্জ বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য যাতায়াত সহজ হবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মনে করেন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়ন এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। তারা বলেন, "প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে অল্প সময়ের সংস্কারেই এই ভবনটিকে সচল করা যায়। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগ ও অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন এখন সময়ের দাবি।"
চন্দ্রগঞ্জবাসী মনে করেন, একটি নতুন উপজেলার পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে অবকাঠামো জরুরি হলেও তার আগে প্রয়োজন প্রশাসনিক সচলতা। তাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি—বিলাসবহুল ভবনের অপেক্ষা না করে দ্রুত পুরাতন থানা ভবনটি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হোক।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন এই প্রস্তাবটি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং চন্দ্রগঞ্জকে একটি কার্যকর উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।
সম্পাদক: অধ্যাপক জিএম জাকারিয়া খান সায়েম, সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি :মিসেস সায়েমা সিয়াম রুপম, নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল্লাহ হাসনাইন জিশান, সম্পাদনা সহযোগীঃ আব্দুল্লাহ তাহসিন জিহান, তাজকিয়া তাবাসসুম জুহি, আব্দুল্লাহ তাসনিম জামিল, তাহসিনা জান্নাত জাইফা