ঢাকাশুক্রবার , ২০ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

প্রবাসী শ্বশুরকে ঈদের উপহার পাঠিয়ে নজির গড়লেন জামাই, আবেগঘন ঘটনায় চাঁদপুরে আলোড়ন

digantanews24
মার্চ ২০, ২০২৬ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রবাসী শ্বশুরকে ঈদের উপহার পাঠিয়ে নজির গড়লেন জামাই, আবেগঘন ঘটনায় চাঁদপুরে আলোড়ন

স্টাফ রিপোর্টার | চাঁদপুর (ফরিদগঞ্জ):

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসী পরিবারে ব্যতিক্রমী এক মানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে এবারের ঈদ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কাতারে প্রবাস জীবন কাটানো লিটন ভূইয়া, যিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ের দায়িত্ব বহন করে আসছেন, সেই মানুষটিই এবারের ঈদে পেলেন এক ভিন্নধর্মী ভালোবাসার উপহার।

প্রায় আট মাস আগে কনটেন্টপ্রিনিয়রও উদ্যোক্তা মো. নাঈম হোসেনের সঙ্গে লিটন ভূইয়ার বড় মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়ে আসছেন নাঈম হোসেন। এবারের ঈদকে সামনে রেখে তিনি শুধু শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জন্য ঈদের পোশাক ও বাজারই করেননি, বরং তার মনে এক বিশেষ ইচ্ছা জন্ম নেয়—দূর প্রবাসে থাকা শ্বশুরের জন্যও কিছু করা।

জানা যায়, প্রবাস জীবনে দিনরাত পরিশ্রম করে পরিবারকে সুখে রাখলেও, প্রবাসীদের জন্য ঈদের আনন্দে ব্যক্তিগত উপহারের কথা খুব কমই ভাবা হয়। এই বাস্তবতা থেকেই নাঈম হোসেন সিদ্ধান্ত নেন, যেকোনোভাবে কাতারে অবস্থানরত শ্বশুরের কাছে একটি পাঞ্জাবি পৌঁছে দেবেন।

এ লক্ষ্যে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালান। প্রথমে একটি সূত্র পেলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন একটি নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে পান। অবশেষে বাংলাদেশি ৩৩৬৫ টাকায় একটি পাঞ্জাবি ক্রয় করে কাতারে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে লিটন ভূইয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

২৫ বছরের প্রবাস জীবনে এই প্রথমবার দেশের কেউ তাকে ঈদের উপহার পাঠিয়েছে—এমন অভিজ্ঞতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিটন ভূইয়া। তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ আর ভালোবাসার হাসি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছোট্ট উদ্যোগ তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কষ্টকে কিছুটা হলেও লাঘব করেছে।

স্থানীয়দের মতে, যেখানে প্রবাসীরা নিয়মিত দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অবদান রাখছেন, সেখানে তাদের অনুভূতির দিকটি অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও মনে করছেন তারা।

এই ঘটনাকে অনেকে “স্রোতের বিপরীতে হাঁটার” এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও সম্মানের এমন প্রকাশ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

এ ধরনের সচেতনতা ও মানবিকতা দেশের প্রতিটি পরিবারে ছড়িয়ে পড়ুক—এমন প্রত্যাশা সবার।

কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।