
সন্তানকে জন্ম দেওয়া বাবা-মায়ের অধিকার নয় শুধু, এটি একটি বড় দায়িত্বও। সেই দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ভালোবাসা, সঠিক পথ দেখানো এবং বিপদে পাশে থাকা। কিন্তু সন্তানকে জন্ম দেওয়ার অর্থ তার জীবনের ওপর নিরঙ্কুশ মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা নয়।
তামান্নাকে ঘিরে আলোচিত ঘটনা আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন তুলে ধরেছে—সন্তানের সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের পছন্দ না হলে, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানো কি সম্ভব নয়?
বাবা-মায়ের উদ্বেগ অস্বাভাবিক নয়। তরুণ বয়সে আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে, ভবিষ্যতের ঝুঁকিও অজানা থাকতে পারে। তাই সন্তানকে বোঝানো, সতর্ক করা ও পরামর্শ দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব। কিন্তু বোঝানোর পরিবর্তে জোরজবরদস্তি, অপমান কিংবা শারীরিক হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তামান্নার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সঠিক না ভুল প্রমাণিত হবে, তা এখনই বলা যায় না। কিন্তু একটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা আর সেই সিদ্ধান্তের কারণে কাউকে হেনস্তা করা এক বিষয় নয়। আদালতের নির্দেশ থাকলে তা মানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে সন্তান নিজের ভালোবাসা, সমস্যা কিংবা ভুলের কথা নির্ভয়ে বলতে পারে। অতিরিক্ত শাসন তাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে; বিশ্বাস তাকে বিপদেও পরিবারের কাছে ফিরতে সাহস জোগায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ঘটনা যাচাই ছাড়া প্রচার করাও উদ্বেগজনক। আজকের ভাইরাল ভিডিও ও অপমানজনক মন্তব্য ভবিষ্যতে একজন মানুষের সামাজিক জীবন, শিক্ষা ও কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
বাবা-মায়ের কষ্টের মূল্য আছে, সন্তানের স্বাধীনতারও মূল্য আছে। একটিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্যটিকে ধ্বংস করা কোনো সমাধান নয়।
সন্তান আপনার, কিন্তু সে আপনার সম্পত্তি নয়। তাকে বোঝান, ভুল করলে পাশে থাকুন, প্রয়োজনে সতর্ক করুন—কিন্তু ভয় দেখিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না।
মনে রাখবেন, প্রকৃত ভালোবাসা কাউকে জোর করে আটকে রাখে না; বরং এমন একটি আশ্রয় তৈরি করে, যেখানে মতের অমিল থাকলেও সম্পর্ক অটুট থাকে এবং ভুল হলেও ফিরে আসার দরজা খোলা থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান মল্লিক, নির্বাহী সম্পাদক সিয়াম হোসেন, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫