1. hasansahriare@gmail.com : Hasan Sahriare : Hasan Sahriare
  2. asmjashim2017@gmail.com : Diganta : jashim Diganta
  3. admin@digantanews24.com : Manir :
২ থানার ওসির বিরুদ্ধে নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নিপীড়নের অভিযোগ - Diganta News
শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

২ থানার ওসির বিরুদ্ধে নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নিপীড়নের অভিযোগ

  • Update Time : শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১, ৮.৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১১১ Time View
ছবি: সংগ্রহীত

রাজশাহীর বিভাগের ২ থানার ওসি’র বিরুদ্ধে হোসনে আরা বেগম নামের নারী পুলিশ কর্মকর্তার স্বামীকে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া উঠেছে। গেছে। গত বুধবার রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন নারী ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
হোসনে আরা বেগম রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্তি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার মূল কর্মস্থল ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।

এদিকে হোসনে আরার অভিযোগটি যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার গোলাম ফারুক (সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক) সুপরিশ করেছেন।
অভিযুক্ত ২ ওসি হলেন, রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ও দামকুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম। মাহবুব আলম অভিযোগকারী হোসনে আরা বেগমের সাবেক স্বামী। ২০১৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

নারী পরিদর্শক হোসনে আরা বেগমের অভিযোগ:
হোসনে আরা বেগম জানান, গত ২০১৩ সালে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমের সাথে তার বিয়ে হয়। মাহবুব আলম বর্তমানে রাজশাহী মহানগর এর দামকুড়া থানার ওসি’র দায়িত্ব পালন করছেন। তখন তিনি এবং মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ২০১৮ সালে মাহবুব আলমের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই মাহবুব আলম হোসনে আরা বেগমের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করতো। পরবর্তীতে তারা পারিবারিকভাবে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার ললিতাহার এলাকার আব্দুল ওদুদের ছেলে মামুন হুসাইনের সঙ্গে বিয়ে হয় এবং সেখানো তিনি সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন।

তিনি আরও জানান, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মণ রাজশাহীতে যোগদান করার পর হোসনে আরা বেগমের পরিচয় হয়। তাকে কথা প্রসঙ্গে তার বিষয়টা জানায়। এরপর থেকে নিবারন চন্দ্র বর্মন তাকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতে থাকে। বিষয়টা না বোঝার ভান করে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন তিনি।

অভিযোগে হোসনে আর জানান, মাহবুব আলম বোয়ালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিবারণ চন্দ্র সেই সময় মাহবুব আলমের বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাকে মাঝে মাঝে ফোন করতেন এবং বলতেন, একই শহরে অন্য ছেলেকে বিয়ে করে তুমি কি সংসার করতে পারবা? তুমি তো বিপদে পড়ে যাবা। এছাড়া পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমও আমার বর্তমান স্বামী মাহববু হুসাইনকে মতিহার থানায় ডেকে নিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হোসনে আরাকে বিয়ে করে তুমি ভালো থাকতে পারবে না। তারপর বলেছিলেন, ওর সাথে মিশে তুমি আমার সাথে শত্রুতা তৈরি করো না।

গত ১৬ মার্চ রাত দেড়টার সময় আমার স্বামী মাহবুব হুসাইন আমাকে ফোন করে বলে যে, বাসায় পুলিশ এসেছে। আমি আমার স্বামীর ফোন থেকে বোয়ালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লতিফের সাথে কথা বলি। তারা তখন আমার শ্বশুর-শাশুড়ির বাসা থেকে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পুণরায় এসে আমার স্বামীকে নিয়ে যায়। আমি পরিদর্শক লতিফকে ফোন করে বলি, তুমি কি ওকে (মাহবুব হুসাইন) নিতে গেছো? লতিফ বলে, হ্যাঁ, নিয়ে গিয়েছি। এরপর থেকে আমি অসংখ্যবার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ এবং লতিফকে ফোন করি এটা জানার জন্য যে, তারা আমার স্বামীকে কেন নিয়ে গেছে? কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমি পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য হওয়া সত্বেও তারা আমার ফোন রিসিভি করেনি।

এরপর সকাল ৮ টা ১০ মিনিটের দিকে আমি বোয়ালিয়া থানায় আসি। ডিউটি অফিসার এএসআই সুলতানা আমাকে জানায় যে, আমার স্বামীকে বোয়ালিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে রাত ২টা ৩০ মিনিটের পরে। ওই সময় আমি ডিউটি অফিসারের সাথে এবং থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারি, আমার স্বামীর নামে তাদের কাছে কোনো রাজনৈতিক তথ্য নাই।

আমি আমার স্বামীর সাথে দেখা করতে চাইলে ডিউটি অফিসার জানায় ওসি স্যারের নিষেধ আছে। সকাল অনুমানিক ৮টার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ থানায় এসে মুচকি হেসে আমাকে বলে যে, সেইতো দৌড়াইয়া আমার কাছে আসলা। কিন্তু সময়মত অসো নাই। তখন তো আমাকে ভালো লাগে নাই।

এরপর তিনি বললেন, তোমার স্বামী তো শিবির করে। আমি বললাম, না স্যার ও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। তখন তিনি বললেন, পুলিশ কমিশনার স্যারের কাছে তোমার কথা বলো। তিনি বললে তোমার স্বামীকে ছেড়ে দিবো।
আমি বললাম, আমি কি আপনার সাথে কমিশনার স্যারের কাছে যাবো? নিবারন স্যার বললেন, না তোমার যেতে হবে না। তখন আমি ডিউটি অফিসাবের রুমে অসহায়ের মত বসে থাকলাম। এরপর আনুমানিক বেলা ১টার দিকে নিবারন চন্দ্র থানায় ফিরলেন। আমি পিছনে পিছনে তার অফিস রুমে ঢুকলাম।
হোসনে আরা বলেন, নিবারন স্যার বললেন, পুতুল (হোসনে আরা) শুধু কমিশনার নয়, এই শহরে আমি যেটা বলি সেটাই শেষ কথা।

এরপর তিনি বললেন, তোমার স্বামীর নামে মামলা হবে। তখন আমি বললাম, স্যার আমি কি আমার স্বামীর সাথে দেখা করতে পারবো? তিনি অনুমতি দিলেন। আমি আমার স্বামীর সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর মুখে হাতে আঘাতের চিহ্ন। আমি আমার স্বামীকে দেখে তার দুইটা মোবাইলের একটা ওসি স্যারের নিকট হইতে বুঝে নিয়ে কোর্টে চলে আসি।

ওইদিন বিকেল ৬টার দিকে আমার স্বামীকেসহ গ্রেফতারকৃত অন্যদের আদালতে নিয়ে আসা হয়। তখন জানতে পারি আমার স্বামীর নামে সন্ত্রাস দমন আইনের মামলা দিয়েছে এবং তার নামের পাশে শিবিরকর্মী লিখে দিয়েছে। অথচ আমার স্বামী কোনভাবেই জামাত-শিবিরে সাথে জড়িত না। মূলত আমার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সাথেই জড়িত নয়। কোনো দলীয় কমিটিতে আমার স্বামীর নাম কেউ দেখতে পারবে না।

পরিদর্শক হোসনে আরা আরও অভিযোগে বলেন, আমার স্বামী পেশায় একজন সাংবাদিক। ওসি বোয়ালিয়া নিবারন চন্দ্র বর্মণ তার ব্যক্তিগত নোংরা উদ্দেশ্য আমার উপর প্রয়োগ করতে না পেরে এবং ওসি মাহবুব আলম আমার উপর পূর্ববর্তী আক্রোশ থেকে আমার জীবনটা ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় চালান দিয়েছে। আমি পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে যেন হেই প্রতিপন্ন হই সে জন্যই এই ধরনের কাজ করেছে।

অভিযুক্তরা যা বললেন:
এদিকে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ওসি ও হোসনে আরার সাবেক স্বামী মাহবুব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ধরনের ঘটনা সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমার সঙ্গে হোসনে আরার বিয়ে হয়েছিল। তারপর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নাই। সে আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

আরেক অভিযুক্ত ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ বলেন, হোসনে আরার সঙ্গে কোনো আপত্তিকর কথা হয়নি। তার স্বামীকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু স্বামীকে বাঁচাতে সে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, নারী পুলিশ কর্মকর্তা একটি অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগটি আমার পড়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারবো না।

নিউজটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরো খবর

Copyright © All Right Reserved digantanews24.com
Theme Customized BY CreativeNews