1. hasansahriare@gmail.com : Hasan Sahriare : Hasan Sahriare
  2. asmjashim2017@gmail.com : Diganta : jashim Diganta
  3. admin@digantanews24.com : Manir :
মায়ের চোখের জলে খুলে গেল নির্যাতনকারী ছেলের হাতকড়া - Diganta News
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

মায়ের চোখের জলে খুলে গেল নির্যাতনকারী ছেলের হাতকড়া

  • Update Time : সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২.৪৩ অপরাহ্ণ
  • ৩২৬ Time View
ছবিঃ সংগ্রহীত

পঁচাত্তর বয়সী মোমেনা বেগম।

পাঁচ ছেলে থাকলেও খেতে দেন না কেউ। উল্টো স্বামীর রেখে যাওয়া জমি লিখে নিতে মাঝে মধ্যেই তাকে মারধর করেন।

ছেলেদের নির্যাতন সইতে না পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বিচার নিয়ে গিয়েছিলেন।

খবর পেয়ে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে আরেক দফা পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠান মেজো ছেলে।

চারদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ফের বিচারের আশায় ইউএনওর কাছে যান মোমেনা।

অভিযোগ শুনে পাঁচ ছেলেকে পুলিশে দেওয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও।

ছেলেদের হাতে পুলিশ হাতকড়া লাগাতেই কেঁদে উঠলেন সেই মা। এরপর ইউএনওর কাছে কাছে মিনতি করে নিজেই ছাড়িয়ে নিলেন ছেলেদের।

সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিউজা-উল-জান্নাহের কার্যালয়ে। মোমেনা বেগমের বাড়ি একই উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামে।

জানা গেছে, পাঁচ ছেলে আর তিন মেয়ের সংসার মোমেনা বেগমের। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে স্বামী শফিরদ্দিন খলিফা মারা গেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে নিজের ভরণপোষণ নিয়ে সমস্যায় পড়েন মোমেনা। ছেলেরা তার খুব একটা দেখভাল করেন না। বরং জমি ভাগ না করে দেওয়ায় পাঁচ ছেলেই তাকে নির্যাতন করতেন।

নির্যাতন সইতে না পেরে সম্প্রতি শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান মোমেনা। এমন খবর জানতে পেরে মাকে পিটিয়ে সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন মেজো ছেলে ইব্রাহিম। রোববার কিছুটা সুস্থ হয়ে ফের ইউএনওর কাছে অভিযোগ দেন মোমেনা।

ইউএনও বিচারের জন্য পাঁচ ছেলের নামে লিখিত নোটিশ পাঠান। এরপর ইব্রাহিম খলিফা, জাহিদ খলিফা, আয়েব আলী ও নুর ইসলামকে ইউএনওর কার্যালয়ে নেয় পুলিশ। আরেক ছেলে সুরুজ অনুপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও অফিসে মাকে মারধরের কথা অস্বীকার করেন উপস্থিত তিন ছেলে। তারা বলেন, এখন থেকে আমরা সবাই মায়ের ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা দেব। এ সময় তারা অবশ্য জমি-জমা সবাই ভাগ করে দেওয়ার জন্য দাবি করেন।

আয়েব আলী নিজের অপরাধ স্বীকার করে মায়ের কাছে মাফ চেয়ে এমন ভুল না করার বিষয়ে মুচলেকা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিস্তারিত শুনানি শেষে মাকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো ইব্রাহিম খলিফার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন ইউএনও। এ সময় তাকে হাতকড়া পরায় পুলিশ। এ দৃশ্য দেখেই কেঁদে ওঠেন মা মোমেনা। কাকুতি-মিনতি করে ছাড়িয়ে নেন ছেলে ইব্রাহিমকে।

মায়ের চিরন্তন এ মমতায় ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে চোখ মুছতে থাকেন। একপর্যায়ে মুচলেকা নিয়ে অন্য সবার মতো ইব্রাহিমকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

শ্রীপুরের ইউএনও লিউজা-উল-জান্নাহ বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারের জন্য মোমেনা বেগমের পাঁচ ছেলেকে নোটিশ করা হয়েছিল। হাজির হয়েছিলেন চার ছেলে। কিন্তু মায়ের মমতায় শিথিল করতে হয়েছে অনেক কিছু।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, বৃদ্ধা মায়ের মিনতির কারণে এবারের মতো মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ নিয়মিত খোঁজখবর রাখবে।

Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

Copyright © All Right Reserved digantanews24.com
Site Customized BY Monir Hosen