1. hasansahriare@gmail.com : Hasan Sahriare : Hasan Sahriare
  2. asmjashim2017@gmail.com : Diganta : jashim Diganta
  3. admin@digantanews24.com : Manir :
কেমন আছেন আফগানরা? - Diganta News
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

কেমন আছেন আফগানরা?

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২.৫৭ অপরাহ্ণ
  • ১১৮ Time View
ছবিঃ সংগৃহীত

আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে নগদ অর্থ সরবরাহ কমে গিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জীবনের নানা ক্ষেত্রেও প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

আফগানিস্তান-উজবেকিস্তান সীমান্ত থেকে দেশটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

সেখানে একটি সেতু পেরিয়ে নতুন ইসলামিক আমিরাতে ঢুকছিল একটি মালবাহী কার্গো ট্রেন। সীমান্তে উজবেকদের উল্টো দিকে তালেবানের সাদা কালো পতাকা উড়ছিল। কিছু ব্যবসায়ী তালেবানের ক্ষমতায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

গম বোঝাই একটি ট্রাকের চালক বিবিসিকে জানান, আগে এই চেকপয়েন্ট পার হওয়ার সময় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হতো। এখন আর সেটি নেই। আমি কাবুলের পথে ড্রাইভ করে যেতে পারি কোন পয়সা না দিয়েই।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটিতে এখন নগদ টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাণিজ্য ব্যাপক হারে কমে গেছে। কারণ আফগান আমদানিকারকরা অর্থ দিতে পারছেন না।

হাইরাতান বন্দরে তালেবানের হেড অব কাস্টমস মৌলভী সাইদ বলেন, বাণিজ্য বাড়াতে তারা শুল্ক কমিয়ে দিচ্ছেন এবং সম্পদশালী ব্যবসায়ীদের দেশে ফেরার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে এবং পরবর্তী জীবনে ব্যবসায়ীরা পুরস্কৃত হবেন।

দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম শহর মাজার-ই শরীফ থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে যদিও অনেকেই অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন। শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ব্লু মসজিদ।

তালেবান এসব দখলের আগে ওই চত্বরটি ছিল তরুণ নারী পুরুষে ভরা। অনেকেই সেখানে গিয়ে সেলফি তুলতো। এখন তালেবান লিঙ্গভেদে আলাদা সময়সূচী ঠিক করে দিয়েছে। নারীরা সকালে আসবেন আর পুরুষরা দিনের বাকী সময়।

এখন সেখানে নারীর সংখ্যা খুবই কম। এক নারী বলেন, সব ঠিক আছে। তবে হয়তো নতুন সরকারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মানুষের বেশ কিছুটা সময় লাগবে। স্থানীয় প্রভাবশালী তালেবান নেতা হাজী হেকমতের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, আপনারা হয়তো নিরাপত্তা দিচ্ছেন কিন্তু সমালোচকরা বলছে আপনারা এখানকার সংস্কৃতিকে হত্যা করছেন।

তিনি উত্তর বলেন, এমন কিছুই হচ্ছে না। গত ২০ বছরে এখানে পশ্চিমা প্রভাব ছিল। ৪০ বছর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ এক দেশ থেকে আরেক দেশের কাছে গেছে। আমরা আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে হারিয়েছি। এখন আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনছি। তিনি বলেন, ইসলামে নারী পুরুষের মেলামেশা নিষিদ্ধ।

মানুষের সমর্থন উপভোগ করছেন তারা। আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করছে। হয়তো তালেবানের ইসলাম সম্পর্কিত ব্যাখ্যা দেশটির রক্ষণশীল সমাজের সঙ্গে খুব একটা আলাদা নয়। তবে বড় শহরগুলোতে এখনো তালেবানদের নিয়ে বিরাজ করছে গভীর সন্দেহ।

হাজী হেকমতের মতে, এটি বছরের পর বছর ধরে তালেবান বিরোধী প্রোপাগান্ডার ফল। কিন্তু আত্মঘাতী বোমা হামলা কিংবা টার্গেটেড কিলিং এর ইতিহাসও এজন্য কম দায়ী নয়।

ব্লু মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এক জায়গায় বড় একটি জটলা দেখা গেল। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারটি মৃতদেহ শুইয়ে রাখা হয়েছিল। একজনের পরিচয় হিসেবে লিখে রাখা হয়েছিল অপহরণকারী আর সতর্কতা ছিল অন্য অপরাধীদের প্রতি যে শাস্তি হবে এমনই।

লোকজন সেখানে ছবি তুলছিল এবং নিজেদের অতীত ভুলে সামনের দিকে তাকানোর চেষ্টা ছিল তাতে। আফগানিস্তানের বড় শহরগুলোতে সহিংস অপরাধ দীর্ঘকালের সমস্যা। এখন তালেবানের সমালোচকরাও বলছেন, নিরাপত্তা বেড়েছে।

একজন বলছিলেন, এরা অপহরণকারী হলে ঠিক শাস্তিই হয়েছে। অন্যদের জন্য এটি বড় শিক্ষা হবে। তবে শহরের অনেকেই আবার নিরাপদ বোধ করে না। আইনের ছাত্রী ফারজানা বলেন, যখনই ঘরের বাইরে যাই, তালেবানদের দেখি, ভয় লাগে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা। কিন্তু সরকারিগুলো এখনো বন্ধ। তালেবানের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে ছেলে ও মেয়েদের এখন থেকে মাঝখানে পর্দা দিয়ে আলাদা বসতে হবে। ফারজানার কাছে এটি ততটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও তার ধারণা তালেবান শেষ পর্যন্ত মেয়েদের কাজের অনুমতি দিবে না।

তিনি বলেন, এ মূহুর্তে যদিও শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া নারীদের নিরাপত্তার জন্য ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এ মূহুর্তে আশাহত লাগছে নিজেকে, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী হতে আমি আমার সর্বোচ্চটাই করে যাব।

এর আগের যখন তালেবান ক্ষমতায় ছিল, তখন নিয়ননীতি আরও কঠোর ছিল। মেয়েরা তখন পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাইরে বের হতে পারতো না। আফগান শহরগুলোতে এখন সেই ভীতিই তৈরি হয়েছে যে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে ওই রকমই হবে কীনা। দেশটির উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বহু মানুষের হৃদয় জয় করাই এখন তালেবানের প্রধান লক্ষ্য।

হাজী হেকমত বলেন, সামরিকভাবে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ছিল কঠিন। কিন্তু আইনের শাসন বাস্তবায়ন করা ও একে সুরক্ষা দেওয়া আরও কঠিন।

Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

Copyright © All Right Reserved digantanews24.com
Site Customized BY Monir Hosen