চন্দ্রগঞ্জে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম
মোঃ ইসমাইল হোসেন : জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর সময়োপযোগী ও কৌশলী পদক্ষেপের ফলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা যেমন কমেছে, তেমনি পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম যোগদানের আগে থানায় দালাল চক্রের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই থানার ফটক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং দালালের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করেন। এখন যেকোনো ভুক্তভোগী সরাসরি ওসির কক্ষে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। তাঁর এই কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।
পেশাদার এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চিহ্নিত চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত চিরুনি অভিযান চলছে। আগে যারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরত, ওসির কড়া নির্দেশে তাদের অনেকেই এখন শ্রীঘরে। বিশেষ করে ‘কিশোর গ্যাং’ নির্মূলে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি আটজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় মুচলেকা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দিয়ে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
কেবল আইন প্রয়োগ নয়, মানবিক অফিসার হিসেবেও মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক কলহ নিরসনে তাঁর নিরপেক্ষ ও আন্তরিক ভূমিকা অনেক ভেঙে যাওয়া সংসারকে জোড়া লাগিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, অর্থের অভাবে যারা বিচার পেত না, ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও অসহায়দের সহায়তা করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়, বর্তমানে চন্দ্রগঞ্জে আগের মতো চুরি, ডাকাতি বা ট্রান্সফরমার চুরির মতো ঘটনা নেই বললেই চলে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার সামনে বখাটেদের উৎপাত বন্ধ হওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন অভিভাবকরা।
এ প্রসঙ্গে ওসি মুহাম্মদ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, “পুলিশ চাইলে শতভাগ মানুষকে খুশি করতে পারে না। যার অন্যায্য আবদার রক্ষা করতে পারি না, তাঁর কাছে আমি প্রিয় নই। তবে আমি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়ের নির্দেশনায় আইন অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে শতভাগ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

