ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন বিভীষিকা: কলম যখন মরণাস্ত্র
মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা : নিজস্ব প্রতিনিধি
সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ঝকঝকে স্টিলের কলম। পকেটে রাখা থাকলে বোঝার উপায় নেই যে এটি কোনো সাধারণ লেখার সরঞ্জাম নয়। অথচ এই নিরীহ দর্শন বস্তুটিই এখন ঢাকার অপরাধ জগতে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নাম তার ‘পেন গান’ বা কলম পিস্তল।
পেন গান মূলত একটি বিশেষ কৌশলে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র যা দেখতে হুবহু কলমের মতো। এর গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়াম বডি, উপরে একটি পুশ-বাটন এবং সামনে কলমের নিবের মতো সুঁচালো অংশ। এতে কালির পরিবর্তে থাকে একটি স্প্রিং-লোডেড ফায়ারিং পিন এবং একটি সিঙ্গেল শট চেম্বার। এতে সাধারণত .২২ ক্যালিবারের বুলেট ব্যবহার করা হয়। একটি মোচড় দিয়ে লোড করার পর বাটনে চাপ দিলেই তীব্র গতিতে বুলেট বেরিয়ে আসে।
এই পেন গানের আকৃতি ছোট হওয়ায় পকেটে, ব্যাগে বা হাতল হিসেবে সহজেই লুকিয়ে রাখা যায়। মেটাল ডিটেক্টর ছাড়া তল্লাশিতে এটি ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব।
এই মরণাস্ত্রে ব্যবহৃত .২২ ক্যালিবারের গুলি সাধারণত পাখি মারার এয়ারগানে ব্যবহৃত হয়। ফলে অপরাধীদের জন্য এর গুলি সংগ্রহ করা অন্য যেকোনো অস্ত্রের চেয়ে সহজ। অপরাধীরা খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদে এটি ব্যবহার করে। জনাকীর্ণ স্থানে কোনো সন্দেহ না জাগিয়েই অতি নিকটে গিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পেন গান দূরপাল্লার অস্ত্রের মতো শক্তিশালী না হলেও ১০ থেকে ১৫ ফুটের মধ্যে এটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং প্রাণঘাতী। বিশেষ করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আঘাত করলে বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। অপরাধীরা বর্তমানে ছিনতাই, টার্গেট কিলিং এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য এই “পকেট ওয়েপন” ব্যবহার করছে।
ঢাকায় অপরাধ মানচিত্রে এই নতুন ধরনের ক্ষুদ্রাস্ত্রের অনুপ্রবেশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি এবং তল্লাশিতে বাড়তি সতর্কতা না থাকলে, এই ‘কলম পিস্তল’ আগামীতে বড় ধরনের নাশকতার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

