ঢাকামঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

ভুল রিপোর্টে চিকিৎসায় বিলম্ব: বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিল সাকিবের প্রাণ

Link Copied!

ভুল রিপোর্টে চিকিৎসায় বিলম্ব: বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিল সাকিবের প্রাণ

মোঃ ইসমাইল হোসেন : ​জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর

​পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে আর কয়েক দিন পরেই পাড়ি জমানোর কথা ছিল বিদেশে। ভিসা হাতে নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন ২০ বছর বয়সী তরুণ রাকিবুল হাসান সাকিব। কিন্তু একটি ভুল মেডিকেল রিপোর্ট এবং হাসপাতালের অবহেলা নিভিয়ে দিল তার জীবনপ্রদীপ। এপেন্ডিসাইটিসের জটিলতা সঠিক সময়ে শনাক্ত না হওয়ায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন লক্ষ্মীপুরের এই স্বপ্নদ্রষ্টা তরুণ।

​লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার উত্তর জয়পুর গ্রামের শাহ আলমের বড় ছেলে সাকিব ২০২২ সালে এসএসসি পাস করেন। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঈদুল ফিতরের পরপরই তার বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৫ মার্চ হঠাৎ পেটে ও বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে প্রাথমিক ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেন।

​২৬ মার্চ সাকিবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে চন্দ্রগঞ্জের শহীদ মোস্তফা কামাল (এসএমকে) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, রক্ত ও প্রস্রাবসহ বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হলেও চিকিৎসকরা আসল সমস্যা ধরতে পারেননি। রিপোর্টের বরাতে চিকিৎসকরা জানান, সাকিবের কেবল প্রস্রাবে ইনফেকশন ও রক্তে সামান্য সমস্যা রয়েছে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

​বাড়িতে চার দিন ওষুধ খাওয়ার পরও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় ৩১ মার্চ তাকে নোয়াখালীর মাইজদিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নতুন করে পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে সাকিব দীর্ঘ সময় ধরে এপেন্ডিসাইটিসের জটিলতায় ভুগছেন। ১ এপ্রিল জরুরি ভিত্তিতে তার অপারেশন করা হলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক রোগ নির্ণয়ে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় শরীরের ভেতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে ২ এপ্রিল বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাকিবের।

​ছেলের শোকে পাথর বাবা শাহ আলম বলেন, “এসএমকে হাসপাতালের ভুল রিপোর্ট আমার ছেলের জীবনটা কেড়ে নিল। যদি তারা সময়মতো সঠিক রোগটা ধরতে পারত, তবে আমি পাঁচ দিন আগেই অপারেশনের ব্যবস্থা করতাম। আমার ছেলে মারা গেছে আল্লাহর ইচ্ছায়, কিন্তু এই অবহেলার বিচার হওয়া দরকার যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।”

পরবর্তীতে ​অভিযোগের বিষয়ে এসএমকে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. সাইফুর রহমান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি মনে করতে পারছেন না বলে জানান। পরবর্তীতে তথ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তার পক্ষ থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

​সাকিবের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাকিবের বন্ধুরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।
সর্বশেষ সর্বশেষ