লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলের চেষ্টা: পুলিশসহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ২০
মোঃ ইসামইল হোসেন : জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ দুইজনকে আটক করেছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ফাহিম এবং ‘জুলাই ফাইটার্স’ কর্মী ও ছাত্রদল নেতা আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ফাহিম আহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার বিকেলে উভয় পক্ষ চকবাজার এলাকায় পাল্টা-পাল্টি বিক্ষোভের ডাক দেয়।
আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরো পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা চকবাজার জামে মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের সাথে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শিক্ষার্থীরা পাল্টা আক্রমণ চালায়। এতে সদর থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
খবর পেয়ে ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। এতে জামায়াত নেতা শহিদউল্যাহসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে: আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদ অভিযোগ করেন, “আহত ফাহিম একজন জুলাই যোদ্ধা। তার ওপর পরিকল্পিত হামলার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা কারণে হামলা চালিয়েছে। পরে ছাত্রদল কর্মীরাও আমাদের ওপর হামলা করে এবং পুলিশ আমাদের হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে রাখে।”
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাবেশ করিনি। কিন্তু শিবিরের ছত্রছায়ায় বৈষম্যবিরোধী পরিচয় দিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

