লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা: বিচার ও অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন
মোঃ ইসমাইল হোসেন : জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে নিউ মার্কেটে অবৈধভাবে মসজিদ মার্কেটের জায়গা দখলচেষ্টা ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ২.০০ ঘটিকার সময় মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী মোঃ রাজু এর সাথে মটর সাইকেল পার্কিং নিয়ে মনু নামে একজন অবৈধ দখলদার তরমুজ ব্যবসায়ীর সাথে মারধরের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মামুন, আইডিয়াজ কম্পিউটার এর মোঃ ইয়াসিন সহ রাজু টেলিকম মালিক মোঃ রাজু গুরুত্বর আহত হয়। আইডিয়াজ কম্পিউটার এর মোঃ ইয়াসিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
অতঃপর বিকেল ৫.১৫ ঘটিকার সময় চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী বৃন্দের উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মসজিদ মার্কেটের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করা হলে মার্কেটের বৈধ ব্যবসায়ীরা তাতে বাধা দেন। এ সময় তরমুজ ব্যবসায়ী মনু সহ কিছু কথিত সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
অভিযুক্তকারী ভিকটিমদের ভাস্য মতে জানা যায়, মসজিদ মার্কেটের সামনে মটরসাইকেল পার্কিং এর জায়গা দখল করে মনু নামে একজন ব্যক্তি তরমুজ ব্যবসায়ী তার তরমুজ রাখিয়া মটরসাইকেল পার্কিং এর জায়গা অবরুদ্ধ করে, এতে ব্যবসায়ী মোঃ রাজু তরমুজ ব্যবসায়ী মনুকে জানায় আপনি যে এই তরমুজ গুলো এখানে রাখছেন এখন আমরা ব্যবসায়ীরা মটরসাইকেল কই রাখবো উত্তরে মনু জানায় সেটা আমি জানি না, পরে উক্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তরমুজ ব্যবসায়ী মনুর নেতৃত্বে রকি,মেহেদী,সিদ্দিক,রবিন,কাজল সহ কথিত কিছু সন্ত্রাসীরা মোঃ রাজু এর উপর অতর্কৃত হামলা করে, মোঃ রাজুকে রক্ষা করিতে কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মামুন আগাইয়া আসিলে তাকেও অতর্কৃত কিলঘুষি মারিয়া জখম করে এবং পরনে থাকা জামা ছিঁড়ে ফেলে, পরে আইডিয়াজ কম্পিউটার এর মোঃ ইয়াসিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে বাধা দেওয়াতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কৃত শরীরের বিভিন্ন অংশে কিলঘুষি ও লাঠি মারিয়া গুরুত্বর জখম করে। মোঃ ইয়াসিন এর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চন্দ্রগঞ্জ এস.এম.কে হসপিটালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা অবস্থায় তার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
অভিযুক্ত তরমুজ ব্যবসায়ী মনুর ছেলে রকি জানায়, আমাদের বাহিরের দোকানে অতিরিক্ত তরমুজ হওয়ায় আমরা মসজিদ মার্কেটের সামনে কিছু তরমুজ রাখি কিন্তু হঠাৎ মোঃ রাজু আসিয়া আমাদেরকে জানায় তরমুজ গুলো রাখাতে আমরা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আমাদের মটরসাইকেল গুলো রাখতে পারতেছি না, আমরা পার্কিং এর জায়গার জন্য টাকা দিই, এই বলে মোঃ রাজু ও মামুন সহ ইয়াসিন আমাদের সাথে গরম হয়ে কথা বলে এবং গালিগালাজ করে। আমরা তাদেরকে কোন প্রকার মারধর করি নাই। তারা উল্টো আমাদেরকে মারধর করার জন্য পরিকল্পনা করে আসছে এবং তারা কিছু সংখ্যক তরমুজ নষ্ট করে ফেলে।
মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িত প্রধান মনু সহ রকি, মেহেদী, সিদ্দিক, রবিন ও কাজলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অন্যান্য হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা ও অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন। হামলাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; দ্রুততম সময়ে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”

