ঢাকামঙ্গলবার , ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

‘মঙ্গল’ নাম থেকে ‘আনন্দ’ বা ‘বৈশাখী’ নামে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি মধ্যপন্থা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে

digantanews24
এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ৬:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

‘মঙ্গল’ নাম থেকে ‘আনন্দ’ বা ‘বৈশাখী’ নামে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি মধ্যপন্থা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একে অপরের পরিপূরক হবে।

বাঙালির সহস্র বছরের ইতিহাসে ‘শোভাযাত্রা’ কেবল একটি উৎসবিক প্রকাশ নয়, বরং এটি একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের এক জীবন্ত দলিল। প্রাচীন বুদ্ধ পূর্ণিমা, মধ্যযুগীয় নগর সংকীর্তন এবং গাজন-চড়কের লৌকিক আচার থেকে বিবর্তিত হয়ে আজকের বৈশাখী বা মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি ‘উদ্ভাবিত ঐতিহ্য’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
১৯৮০-র দশকের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-২৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর্যন্ত এই উৎসবের রূপান্তর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি সময়ের সাথে সাথে তার স্বরূপ পরিবর্তন করেছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সংকটের ওপর ভিত্তি করে এই উৎসবের নামকরণ ও রূপ নিয়ে বর্তমানে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সমাজতাত্ত্বিক আলোচনার দাবি রাখে।
বাঙালির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের উৎসবগুলো কখনোই কেবল চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নদীমাতৃক এই ভূখণ্ডের কৃষিভিত্তিক সমাজ কাঠামোয় উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত চলন বা পদযাত্রা।
সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুরখাইমের ভাষায়, এই ধরনের ‘যৌথ উদ্দীপনা’ একটি জাতির সংহতি রক্ষা করে। যখন মানুষ একত্রে কোনো প্রতীক বা আদর্শের পেছনে হাঁটে, তখন তাদের ব্যক্তিগত অস্তিত্ব গৌণ হয়ে সমষ্টিগত পরিচয় প্রধান হয়ে ওঠে।
শোভাযাত্রার নান্দনিকতা: ইতিহাস ও সমাজতাত্ত্বিক বিবর্তন
বাঙালির সহস্র বছরের ইতিহাসে ‘শোভাযাত্রা’ কেবল একটি উৎসবিক প্রকাশ নয়, বরং এটি একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের এক জীবন্ত দলিল। প্রাচীন বুদ্ধ পূর্ণিমা, মধ্যযুগীয় নগর সংকীর্তন এবং গাজন-চড়কের লৌকিক আচার থেকে বিবর্তিত হয়ে আজকের বৈশাখী বা মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি ‘উদ্ভাবিত ঐতিহ্য’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
১৯৮০-র দশকের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-২৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর্যন্ত এই উৎসবের রূপান্তর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি সময়ের সাথে সাথে তার স্বরূপ পরিবর্তন করেছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সংকটের ওপর ভিত্তি করে এই উৎসবের নামকরণ ও রূপ নিয়ে বর্তমানে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সমাজতাত্ত্বিক আলোচনার দাবি রাখে।
বাঙালির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের উৎসবগুলো কখনোই কেবল চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নদীমাতৃক এই ভূখণ্ডের কৃষিভিত্তিক সমাজ কাঠামোয় উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত চলন বা পদযাত্রা।

সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুরখাইমের ভাষায়, এই ধরনের ‘যৌথ উদ্দীপনা’ একটি জাতির সংহতি রক্ষা করে। যখন মানুষ একত্রে কোনো প্রতীক বা আদর্শের পেছনে হাঁটে, তখন তাদের ব্যক্তিগত অস্তিত্ব গৌণ হয়ে সমষ্টিগত পরিচয় প্রধান হয়ে ওঠে।
বাঙালির ক্ষেত্রে এই সংহতি প্রকাশ পেয়েছে কখনও রথযাত্রায়, কখনও নগর সংকীর্তনে, আবার কখনও মহররমের তাজিয়া মিছিলে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে এই পদযাত্রার সংস্কৃতি একটি নতুন মোড় নেয়। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে যে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র সূচনা হয়, তা ১৯৯৬ সালে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এটি কেবল একটি বর্ণিল মিছিল নয়, বরং ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত একটি ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’, যা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।বাঙালির শোভাযাত্রার শিকড় কোনো আধুনিক আবিষ্কার নয়, বরং এটি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ধর্মীয় ও লৌকিক আচারের এক নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। গবেষকদের মতে, বাংলায় শোভাযাত্রার অন্যতম প্রাচীন রূপ হলো বৌদ্ধ ধর্মের ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’র পদযাত্রা। ফা-হিয়েন বা হিউয়েন সাং-এর ভ্রমণবৃত্তান্তেও মগধ ও বঙ্গীয় অঞ্চলে উৎসবের সময় রথ বা বর্ণিল সাজে শোভাযাত্রার বর্ণনা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তিত ‘নগর সংকীর্তন’ বাংলার পথে পথে সম্মিলিত সংগীত ও চলনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এটি ছিল উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণবাদী কঠোরতার বিরুদ্ধে এক ধরনের সামাজিক সাম্য ও প্রেমের পদযাত্রা। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তিতে বাংলায় পালিত হয় গাজন ও চড়ক পূজা। গাজন মূলত শিব বা ধর্মঠাকুরের উৎসব হলেও এর প্রধান কুশীলব হলো অন্ত্যজ শ্রেণির ‘সন্ন্যাসীরা’। এই উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো বিভিন্ন দেব-দেবী বা পশু-পাখির ‘সঙ’ সাজা এবং মুখোশ পরে গ্রাম প্রদক্ষিণ করা। আধুনিক শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বিশালাকার পুতুল, মুখোশ ও লোকজ প্রতিকৃতির একটি বড় শৈল্পিক উৎস হলো এই গাজনের সঙের পদযাত্রা। গ্রামীণ শিল্পীদের হাত ধরে তৈরি হওয়া এই লৌকিক কারুশিল্পই পরে চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

বাংলার মুসলিম সংস্কৃতিতেও শোভাযাত্রার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের ‘তাজিয়া মিছিল’ বা মহররমের শোভাযাত্রা ছিল অত্যন্ত জাঁকালো। ঢাকা ও মুর্শিদাবাদের তাজিয়া মিছিলে অশ্ব, বিশাল পতাকা এবং বাঁশের তৈরি স্থাপত্যশৈলী প্রদর্শিত হতো। এছাড়া মধ্যযুগীয় বাংলার বিবাহ অনুষ্ঠানে বরপক্ষের হাতি বা ঘোড়ায় চড়ে বাদ্যযন্ত্রসহ শোভাযাত্রা করে কনের বাড়ি যাওয়ার রেওয়াজ ছিল একটি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। এই সমস্ত ধারাগুলো মিলেমিশেই বাংলার একটি ‘শোভাযাত্রা কেন্দ্রিক’ মনন তৈরি হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখের আধুনিক উদযাপনের মূলে রয়েছে মোগল সম্রাট আকবরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি ও সৌর সনের সমন্বয় করে যে ‘ফসলি সন’ প্রবর্তিত হয়, তাই আজকের ‘বঙ্গাব্দ’। কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করত এবং পহেলা বৈশাখে জমিদারদের বাড়ি ‘পুণ্যাহ’ অনুষ্ঠানে আপ্যায়িত হতো। অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গ্রাম বাংলায় যে মেলা বসত, তাই ছিল বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের আদি রূপ। মেলায় গ্রামীণ শিল্পীরা তাদের হাতের তৈরি তৈজসপত্র, কাঠের খেলনা ও মৃৎশিল্প নিয়ে আসত, যা আধুনিক শোভাযাত্রার মোটিফ গঠনে সাহায্য করেছে।

আধুনিক নববর্ষের শোভাযাত্রা মূলত একটি শৈল্পিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের ফসল। এটি কেবল উৎসব নয়, বরং ছিল একটি ‘নীরব প্রতিবাদ’। ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে প্রথম সম্মিলিত শোভাযাত্রা বের হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি শোষণের স্মৃতি মুছে বাঙালির নিজস্বতা পুনরুদ্ধার। ১৯৮৫ সালে যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চারুপীঠ’-এর উদ্যোগে শিল্পী মাহবুব জামাল শামিম ও তরুণ ঘোষের নেতৃত্বে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের হয়। কিংবদন্তি শিল্পী এস এম সুলতান ছিলেন এই আয়োজনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা যশোরের সেই মডেল অনুসরণ করে ঢাকায় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র সূচনা করেন। সেই সময়ের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত উত্তাল—একদিকে সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের শাসন, অন্যদিকে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার রেশ। মানুষ যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন শিল্পীরা হাতি, ঘোড়া ও বিশালাকার বাঘের প্রতিকৃতি নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। রাজনৈতিক স্লোগানের বদলে তারা ‘শিল্পের শক্তি’ দিয়ে প্রতিরোধের ভাষা তৈরি করেন।

শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত প্রতিটি প্রতীক বা মোটিফের একটি সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অর্থ রয়েছে। যেমন হাতি ঐশ্বর্য ও জাতীয় শক্তির প্রতীক, বাঘ শোষকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক, পেঁচা প্রজ্ঞা ও পাহারাদারের প্রতীক এবং টেপা পুতুল সারল্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। তবে ১৯৯০-র দশকের মাঝামাঝি থেকে বিশেষ করে শোভাযাত্রাটি যখন ‘মঙ্গল’ নাম ধারণ করে, তখন থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে যোজন যোজন মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়। ইসলামি সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে মঙ্গল ও অমঙ্গলের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ; ফলে ‘মঙ্গল’ কামনায় কোনো প্রাণীর প্রতিকৃতির পেছনে হাঁটা অনেকের কাছে ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী মনে হতে পারে। এছাড়া পেঁচা, হাঁস বা বাঘের মতো প্রতীকের সাথে হিন্দু দেব-দেবীর বাহনের সাদৃশ্য থাকায় অনেকে একে একটি বিশেষ ধর্মীয় সংস্কৃতির আরোপ হিসেবে দেখেন।

বিখ্যাত ইতিহাসবিদ এরিক হবসবম তার ‘ইনভেনশন অফ ট্র্যাডিশন’ তত্ত্বে দেখিয়েছেন যে, অনেক সময় রাষ্ট্র বা বিশেষ এলিট গোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক আদর্শিক প্রয়োজনে নতুন কিছু আচারকে ‘প্রাচীন ঐতিহ্য’ হিসেবে চালিয়ে দেয়। সমাজবিজ্ঞানী আন্তোনিও গ্রামসির মতে, এটি সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের একটি কৌশল হতে পারে, যা অনেক সময় বৃহত্তর জনমানুষের ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে উপেক্ষা করে সাংস্কৃতিক মেরুকরণ তৈরি করে।

বর্তমানে এই শোভাযাত্রার প্রভাব কেবল ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি প্রবাসীরা সিডনি থেকে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক থেকে টরন্টো—সবখানেই বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করছেন। এটি এখন বৈশ্বিক বাঙালির জন্য একটি ‘সাংস্কৃতিক নোঙর’ হিসেবে কাজ করছে। তবে এই বিশ্বায়নের যুগে উৎসবটি এক ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে। বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা উৎসবের আদি ও অকৃত্রিম লোকজ আবেদনকে অনেক সময় ম্লান করে দিচ্ছে। প্লাস্টিক বা কৃত্রিম উপকরণের ব্যবহার গ্রামীণ মৃৎশিল্পীদের জীবিকাকে সংকটে ফেলছে। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে এটি উৎসবের ‘পণ্যায়ন’ (Commodification), যা এর প্রতিরোধের ভাষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে নববর্ষের উৎসবেও। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং অন্তর্বর্তী সরকার একে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘মঙ্গল’ শব্দের ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা এবং একে ঘিরে চলমান তীব্র সামাজিক বিতর্ক নিরসন করে উৎসবকে পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত ও সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নামকরণ। ২০২৫ সালের শোভাযাত্রায় সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি হিসেবে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং স্বৈরাচারবিরোধী প্রতীকগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর অংশগ্রহণের ফলে এটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠেছে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই শোভাযাত্রার টিকে থাকা নির্ভর করবে এর অভিযোজন ক্ষমতার ওপর। এটি যদি কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতীকী প্রদর্শনীতে পরিণত হয়, তবে তা সর্বজনীনতা হারাবে। কিন্তু যদি এটি সব ধর্ম, বর্ণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে, তবেই এর নান্দনিকতা সার্থক হবে। বাঙালির এক হাজার বছরের শোভাযাত্রার ইতিহাস প্রমাণ করে যে, সংস্কৃতি সবসময়ই প্রবহমান এবং পরিবর্তনশীল। পহেলা বৈশাখ আমাদের শেকড়ের উৎসব হলেও এর উদযাপন পদ্ধতি যেন কোনো বিভেদ তৈরি না করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। ‘মঙ্গল’ নাম থেকে ‘আনন্দ’ বা ‘বৈশাখী’ নামে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি মধ্যপন্থা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একে অপরের পরিপূরক হবে। তিমির বিনাশী এই শৈল্পিক পদযাত্রাই হোক আমাদের আগামী দিনের নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের মূল ভিত্তি

কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।
সর্বশেষ সর্বশেষ