ঢাকাবুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

পঞ্চগড়ে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ, জব্দ ২১ টুকরো

সঞ্জু বনিক সৌরভ (পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি)
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে সরকারি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কাটা গাছের ২১টি টুকরো জব্দ করেছে বন বিভাগ। অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের বিষ্ণু নারায়ণী মৌজার কাটাবাড়ি এলাকায়। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিরুল ইসলাম, যিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি, সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২১ টুকরো গাছ জব্দ

বন বিভাগের পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিট কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন জানান, বিষ্ণু নারায়ণী মৌজায় ২০০৪ সালে ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান রোপণ করা হয়েছিল। গত ১৯ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে সরকারি গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় কাটা ইউক্যালিপটাস গাছের ২১টি টুকরো জব্দ করা হয়। জব্দ করা গাছগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকার বেশি বলে জানান তিনি।

বন বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহিরুল প্রধান, হালিম ও আনিস নামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বাড়ির সামনে কাটা গাছ থাকার দাবি

স্থানীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. সোহেল অভিযোগ করেন, এলাকায় রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানোর পরও অভিযুক্ত তাঁতী দল নেতার বাড়ির সামনে কাটা গাছ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পঞ্চগড় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, সরকারি গাছ কাটার পেছনে কারা জড়িত এবং কারও প্রভাব রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গ্রামবাসীর সঙ্গে পরামর্শ করে গাছ কাটার দাবি

অন্যদিকে, কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য গমিরউদ্দিন প্রধান জানান, জাহিরুল প্রধানসহ গ্রামবাসীর সঙ্গে পরামর্শ করে গাছগুলো কাটা হয়েছিল। পরে জালাসিসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশ, তদন্ত করছে বন বিভাগ

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সরকারি গাছ কেটে ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বন বিভাগ কাটা গাছগুলো জব্দ করে।

সরকারি গাছ কাটার এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিষয়ে সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা জরুরী।

কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।