জনস্বার্থে চন্দ্রগঞ্জ ও হাজিরপাড়ার মাঝখানেই নতুন উপজেলা ভবন চায় এলাকাবাসী
মোঃ ইসমাইল হোসেন : জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর।
লক্ষ্মীপুর সদরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে উপজেলা পরিষদ ভবন ঠিক কোথায় নির্মিত হবে—এ নিয়ে জনমনে জল্পনা-কল্পনার পাশাপাশি নতুন দাবি জোরালো হচ্ছে। উপজেলার ভৌগোলিক ভারসাম্য ও জনভোগান্তি লাঘবের কথা চিন্তা করে চন্দ্রগঞ্জ ও হাজিরপাড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান রামকৃষ্ণপুর ও শিবপুর মৌজায় উপজেলা কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সর্বস্তরের মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের (চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, উত্তর জয়পুর, চরশাহী, মান্দারী, দত্তপাড়া ও দিঘলী) জন্য রামকৃষ্ণপুর-শিবপুর এলাকাটি সবচেয়ে সুবিধাজনক কেন্দ্রবিন্দু। এই স্থানে ভবন নির্মিত হলে অধিকাংশ ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রায় সমান দূরত্বে এবং স্বল্প সময়ে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বশিকপুর ও কুশাখালী ইউনিয়ন তুলনামূলক দুর্গম এলাকা। সাধারণ মানুষের দাবি, এই দুটি ইউনিয়নের অবস্থানগত কারণে অন্য কোনো প্রান্তে ভবন নির্মাণ করলেও যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং রামকৃষ্ণপুর-শিবপুর এলাকায় ভবন হলে উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী যাতায়াত খরচ ও সময়—উভয় দিক থেকেই লাভবান হবেন।
এলাকার সচেতন বাসিন্দারা জানান, একটি উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র এমন জায়গায় হওয়া উচিত যা সবার জন্য সহজগম্য। যত্রতত্র ভবন নির্মাণ না করে দীর্ঘমেয়াদী নগরায়ন ও জনসেবা সহজীকরণের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। তারা আরও জানান, ”আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ করা হোক। রামকৃষ্ণপুর ও শিবপুর মৌজা উপজেলার কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকায় এটিই হবে সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।”
উপজেলা পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত গণশুনানি ও কারিগরি জরিপের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

